Thursday, January 4, 2018

দস্যুবর্গের এক অপ্রতিম সুবিধা আছে-
লক্ষ্যর প্রতি নিপট অধ্যবসায়ের ফলে
প্রকৃতপক্ষে আবেগ বিনিয়োগ করে না।
এর ফলে, অনেক সত্য, মাধুর্য্য, সৃষ্টি, প্রকৃতি, প্রণয়
ইত্যাদি হইতে ইহারা সহজে বঞ্চিত থাকে।

সুসভ্য আবেগশীলেরা এইরূপ বঞ্চনা হইতে মুক্ত
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কদর করিতে তাহাদের পরিশ্রম করিতে হয় না 
অনায়াসে ছদ্মবেশী জীব, রঙ্গীন কীট ইত্যাদিতে তাহারা মত্ত হয়,
লক্ষ্য অথবা আত্মপরতা অন্যতম ধারা না হওয়ায়
এমত অবিরত আনন্দ-উৎসবের ছিপি থাকে না তাহাদের।

লক্ষ্য, আত্মপরতা, ফসকান ইত্যাদি সবই- তথা আপেক্ষিক। ন্যায্য।
এবং এই দুই বর্গের অস্তিত্ব চিরন্তন।

 
তবুও কি আশ্চর্য্য দ্যাখো-
খরা, বর্ষা, ফসলে কীট ইত্যাদি সমস্ত থাকা স্বত্বেও 
নবান্ন প্রতি বৎসর আসে,
অথবা অতীতের সুরক্ষিত ফসলে উদযাপিত হয়।

Monday, December 25, 2017

যন্ত্র সবই! সৃজনশীলতা, রোষ, কামেচ্ছা, বৃত্তি,
এমনকি কর্তব্য, তদুপরি স্নেহ ও।

মস্তিষ্ক এবং কামের দ্বন্দ- পোতচালক কে?
উপসংহতি আর অধিসংহতির সঙ্গা কি?
সংহতি ই বা কি?

বাতাস থাকিবেই।
পৃথিবীর কোথাও না কোথাও, শীত বা গ্রীষ্ম থাকিবেই।


কৌশল, তথা মস্তিষ্কের
কৌশল, তথা 'আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বের' ই-
কৌশল, তথা আত্মপরতার-
কেননা সৃষ্টি বস্তুত- আত্মপরতার পরিজন!
সৃষ্টি, বস্তুত যন্ত্রের ব্যবহার।


কঠিন, তথা অপরূপ।

Friday, December 8, 2017

ফি শুক্রবারে, শহরতলিতে,
টাটকা অলাবু, পুঁই, কুমড়া, লাল শাক, পাট শাক ইত্যাদির মতন-
অপারগতার হাট বসে।
ফজরে।
তথাকথিত নির্মল, ভাজা-মাছ-বিশেষণে সমৃদ্ধ
অমুক গ্রামের, তমুক 'গরীব' এবং 'বঞ্চিত',
মেধাবী, এমনকি বনেদী, কৃষকেরা আপণ সাজায়।

ভূগোল, ইতিহাস, শিক্ষা, পরিবেষ্টন, পক্ষাঘাত,
তথাকথিত বুদ্ধি, ইত্যাদি-
প্রতিষ্ঠিত-ভাবে, যুক্তির মুখে ভস্ম নিক্ষেপ করিয়া,
আবালবৃদ্ধবনিতা তাহাতে মজে, সংগ্রহ করে।

ক্ষতি হয় আপনার মত চিন্তাধারীদের-
তাহাদের- যাহারা মস্তিষ্ক শব্দটি অনুভব-হেতু
হৃদয় শব্দটি অপ্রয়োজনীয় বোধ করে।

 
ফি শুক্রবারের হাটে আপনার মত লোকেদের
বিপণি প্রসারণের যোগ্যতা ও যৌক্তিকতা
'কোন দুঃখে?' নামক একপ্রকার প্রচলিত 
অলংকরণে সুসজ্জিত থাকিবে সর্বদা।

Tuesday, November 14, 2017

এইযে 'প্রায় প্রতহ্যই' আপনি সকালে বেড়াইতে যাইতেন,
তাহা যদি 'যান' লিখিতে পারিতাম!

যখন আমি, ইহজীবন অনুযায়ী,
প্রয়োজন ছাড়া, খবরের কাগজ পড়িনা,
তখন যে আপনি নিমেষে পলাতক,
তাহা জ্ঞাত হইলে,
আপনি সত্যি মনে করেন অন্যথা হইত?

প্রায় ব্যতীত আমিও প্রত্যহই হাঁটিয়া আসিতেছি,
জন্মাবধি। এই আশায়,
যদিবা কোনোরূপে মনুষত্ত্ব,
ভূগোল এবং ইতিহাসকে পশ্চাতে ঠাঁই দেয়....

কিন্তু জানেন আপনি?
ভূগোল আর ইতিহাসের কোন অন্ত ইহকালে নাই।
তাহা, প্রায় প্রত্যহে হাঁটা
যতই সহজাত হোক না কেন,

চলমান হইলে শিলায় শ্যাওলা না পড়িবার সূত্রের ন্যায়-
তত্ত্বীয়।


"বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহার,
সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও।"

Saturday, November 4, 2017

ক্ষুধা এক বিশেষ যন্ত্র,
ধরার সমস্ত যন্ত্রনার তক্তা।
মন্দগ্রাহিতার ঔষধ শুধুমাত্র লেশ হইতে পারে
কেননা সুখানুভব সর্বদাই মৌলিক;
তথা সহজাত লেশ ব্যতীত ইহার ব্যাখ্যা নাই।
তাহা ফরাকত যতই বন্ধুত্বপূর্ণ হোক না কেন।

কলা-বোধ, অথবা কৌশল,
এইরূপ মতবাদের যথেষ্ট ব্যাখ্যা নয়।
ভূগোল, ইতিহাস, স্মৃতিবেদনা, সংজ্ঞাবলী ইত্যাদি
এইরূপ ভাবনার, বহুপ্রচিলত হইলেও,
নিছক ওজর মাত্র।

তুমি তো আছই। তোমার তদুপরিরাও আছে।
সবারই আলেখ্য থাকে।
তাই প্রকৃতদের বিপদের ভয় থাকে।
এবং সেইসূত্রে- প্রায় সকলপ্রকার উৎসবের
আধিক্য ও।

Friday, October 27, 2017

বিপরীতার্থক, সমার্থক, নানার্থক, ভিন্নার্থক, এমনকি মর্মার্থক ও-
সবই পারিনিধি; যুক্তি বা বিজ্ঞান ক্ষুধায়।

অপত্য স্নেহের সমার্থক কি?
ঝিনুকে মুক্তার অন্তরীণ থাকা?

সংজ্ঞা, সূত্র ইত্যাদি ভীষণ ভয়াবহ; শাদীর মতো।
কেহ কোনো শাদীকে কখনও ধাবনকালে
দৃষ্টি-বিচ্ছুরণে বাধ্য করিতে পারিয়াছে?
প্রাকৃতিক শোভা যতই মনোলোভা হোক না কেন।
শাদীর এহেন আচরণের বিপরীতার্থক কি?
জলাশয়ের পৃষ্ঠতল-স্থিত উপলের পর
উদ্ভিজ্জ্যের বর্তমানতার সম্ভাব্যতা?
অথবা, মুষলধারার?
ইলশে গুঁড়ি?

সকলই বোধ করি,
সূর্য্যের পূর্ণগ্রহনের ন্যায়।
ব্যাসার্ধ আর দূরত্বের এমত প্রণয়
অদৃষ্টপুরুষের কলাপ না হইলেও,
বিজ্ঞানের অতীত নিশ্চিন্ত।

Sunday, October 22, 2017

ভীষণ কিছু নাই।
আছে মানসিক লগ্নী; আছে দর্প; আর মুকুর।
সকল পরিতাপের হেতু মুকুর।
সহিষ্ণুতা, ভালোবাসা, সহৃদয়তা, আবেগ-
এই সমস্ত বঞ্চিত, মুকুর।

দুর্দশা- হেতু ও মুকুর দুইয়েরই
খোকাবাবু বা লৌহশকট,
হে আলেখ্য, প্রত্যাবর্তন সচরাতিত দুরূহ।

পাপাচারণে ডেঙ্গু-জ্বর, বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ, এবং
সারমেয়ের বাক-স্বাধীনতা আলোচিত হয়।

পাঠকবর্গ তবুও তাঁহাদের,
কেননা হিন্দুস্থানিদের ক্রিয়াপদে লিঙ্গ,
কেননা সংস্কৃতিতে প্রায় সর্বনামেও তথা...

কেননা সমস্ত আবেগ-ই
বস্তুত নিপাতনে সিদ্ধ।

Thursday, August 10, 2017

রজনী পোহানোই সমীচীন; যাহারা 'ঠার বা ইশারা বোঝেনা',
হিজলগাছের মতন কেবলি 'ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে',
কেবল যুক্তি কিংবা গুণতন্ত্রতে মনোনিবেশ করে,
'শহর থেকে কিছুটা দূরে থাকে'- এই সত্য যাহাদের আবেগ-বোধগম্য হয়,
উর্য্যকেন্দ্রকে পরম সত্য বলিয়া ভ্রম করে, যাহারা,
তাহাদের এইরূপ পরিণতিই শ্রেয়।
বুদ্ধি অথবা আবেগ কদাপি, ভূগোল বা ইতিহাসের ন্যায়,
আপেক্ষভাবেও শক্তিশালী হইতে পারে না;
দীর্ঘমেয়াদী নয়, বলাবাহুল্য!

তথা, কীটদের সৌন্দর্যায়ন স্বাভাবিক।
সেইসব কীট- যাহাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জ্বালানির খরচের হিসাব,
আগামীকালের সদ্দে আপিসে পৌঁছাইবার ছুতা ইত্যাদি, আবেগের রূপান্তর
বলিয়া মর্য্যাদা অভিলাষ করে,
সেইসব কীট- যাহারা গূমফের কলাকারুতা এবং শান্তিনিকেতনি সজ্জায়,
হৃদয় এবং মস্তিষ্ক দুই-ই অধিকার করে,
এই ধরা তাহাদের।