Thursday, August 10, 2017

রজনী পোহানোই সমীচীন; যাহারা 'ঠার বা ইশারা বোঝেনা',
হিজলগাছের মতন কেবলি 'ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে',
কেবল যুক্তি কিংবা গুণতন্ত্রতে মনোনিবেশ করে,
'শহর থেকে কিছুটা দূরে থাকে'- এই সত্য যাহাদের আবেগ-বোধগম্য হয়,
উর্য্যকেন্দ্রকে পরম সত্য বলিয়া ভ্রম করে, যাহারা,
তাহাদের এইরূপ পরিণতিই শ্রেয়।
বুদ্ধি অথবা আবেগ কদাপি, ভূগোল বা ইতিহাসের ন্যায়,
আপেক্ষভাবেও শক্তিশালী হইতে পারে না;
দীর্ঘমেয়াদী নয়, বলাবাহুল্য!

তথা, কীটদের সৌন্দর্যায়ন স্বাভাবিক।
সেইসব কীট- যাহাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জ্বালানির খরচের হিসাব,
আগামীকালের সদ্দে আপিসে পৌঁছাইবার ছুতা ইত্যাদি, আবেগের রূপান্তর
বলিয়া মর্য্যাদা অভিলাষ করে,
সেইসব কীট- যাহারা গূমফের কলাকারুতা এবং শান্তিনিকেতনি সজ্জায়,
হৃদয় এবং মস্তিষ্ক দুই-ই অধিকার করে,
এই ধরা তাহাদের।

Wednesday, June 21, 2017

তল্লাশে এবং দৈবে প্রায় সমস্ত অভিরুচি, অভিরতি,
এমনকি সমুদয় আল্হাদ ও অভিলাষের
ব্যক্তিক প্রতিকীকরণ সম্ভব।
এইরূপ প্রতীকগুলিকে মানুষ অন্তরীণ রাখিবার প্রাণপন চেষ্টা করে আজীবন।
মানুষের ধারণা- এহেন চর্চায় সে প্রতীককে ভীষণ সযত্নে রাখে,
তথা অন্তরীণ হওয়া সত্ত্বেও প্রতীকের যে কোনও রসদ 
এমনকি মুক্ত বায়ুর প্রয়োজনীয়তাও অযাচিত।
নিজস্ব প্রতিকীকরণ যে উভয়মুখী না ও হইতে পারে 
সে তাহা উদাসীনভাবে উপেক্ষা করিয়া চলে।

প্রতীক জানে প্রতীকের সৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ইত্যাদি দ্বারা চালিত নয়,
তথা যেই সমস্ত চর্মচটিকাগুলি সদর দুয়ার দ্বারা প্রবেশের অভিপ্রায় রাখে,
প্রতীক তাহাদের দুইহস্তে বর্জন করিতে দ্বিধা করে না। 

অবিলম্বে তবুও, ইতিহাস, অভিজ্ঞতা এমনকি বংশানু ছাপিয়া
থাকে কেবল অনিবার্য চর্মচটিকাদের প্রবেশ।
কখনও উপসেবক, কখনও বিমোহকের ছদ্মবেশে
বাতায়ন বা গবাক্ষ দ্বারা, সাধারণত অপরাগতা
বঞ্চিত বা অতীব মনোলোভা শৈশবের অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উৎসবের মাধ্যমে 
প্রবেশ করে সেইসব চর্মচটিকারা।


তৈরী হয় উত্তাল, থমথমে ছাদ; উদাসীন ও সহজাতভাবে।

Friday, June 2, 2017

চকিতে গবাক্ষ হইতে সূর্যরশ্মি
অতীব তীব্রভাবে বিচ্ছুরিত হইতে আরম্ভ করে...
কুন্তীর চক্ষুযুগল ধাঁধাইয়া যায়,
ঠিক মূর্ছা বলা যায় না- একটা ঘোরের মধ্যে প্রবেশ করে কুন্তী।
সম্বিত ফিরিয়া পাইয়া দেখিতে পায়-
ক্রোড়ে এক সদ্দ্যজাত ফুটফুটে শিশু;
আনন্দে আত্মহারা, সে অরুণদেবকে প্রণাম করিয়া
দ্রুতপদে কক্ষ হইতে বিদায় লয়।

বাসক উদ্দেশে ধাবনকালে পার্শবর্তী কাননে
এক অভূতপূর্ব দৃশ্য প্রতক্ষ্য করিয়া, চমক লাগিয়া যায় তার-
অনতিদূরে, সুতনু এক শিখীযুগল মানবকণ্ঠে হাঁকিয়া উঠে-
"আমাদের একটু বলে দেবেগা বৌঠাকুরুন, তোমাদের পদ্ধতিটা?
বড় সাহেব নিষেধ করেছেন- আমাদের ওইভাবে কিছু করতে নাইগা-
আমরা জাতীয় পাখী বলে কতা!"

কুন্তী নির্বাক, মুখে টু শব্দটি নাই- অপ্রতিভ নিস্তব্ধতা।
নিরাশ শিখীযুগল একে অপরের দিকে কিয়ৎক্ষণ চাহিয়া থাকে
এবং চুরুট সেবনে ব্যস্ত হইয়া পড়ে।

Thursday, May 18, 2017

চাঁদ ও ছাদের উচ্চতা একই থাকিয়া যায় 
ধনাত্মক শব্দাবলী, অপহাস, মুহূর্ত, ধূম্ৰপান,
যবনিকা বিহীন অর্বাচীন বাটী, 
অভ্যন্তরীণ নকশা সম্পর্কিত অন্বেষণ,
আলোচনা, তর্ক, নির্মাতাকে নির্দেশ,
অতঃপর মধ্যভোজ, জড়িত পরসঙ্গ ,আসঙ্গ,
পাঠশালা হইতে প্রত্যাবর্তনে অপত্য,
তাহার প্রতি কর্তব্যবলী
সমস্তই থাকিয়া যায়।

থাকে না কেবল জলধির আগমন এবং সমাবেশ,
বস্তুত তাহাও থাকে; কিন্তু ঠিক সেইরূপ থাকে কি?


পক্বত্ব ফি বৎসর সাদীতে আসে,
আমার কোনো অভিসন্ধি বা নকশাই
অম্বুদ সৃষ্টি করিতে অক্ষম।
অন্যূন অনুবর্তী ক্রিয়াভাব, কিংবা দোহদ!

Friday, May 12, 2017

পূর্ববর্তিতার শুক্ল এবং কৃষ্ণপক্ষের ন্যায়
পরিচ্ছন্ন গন্ডি হয়না।
সেই সূত্রে অপব্যাখ্যা খুব সুলভ
দ্ব্যর্থক বা অস্পষ্ট সংজ্ঞাগুলির সহিত
আয়েশ না থাকিলেই কদর্থন সহজদ্রষ্ট-
স্বতঃস্ফূর্ততাও ওজরের প্রকার বলিয়া ভ্রম হয়।

যাহারা লেশমাত্র বিনয় না করিয়া
বিনয়-এ জীবনযাপন করে শুধু,
যাহারা নোনা, সমুদ্র ইত্যাদি শব্দগুলি ভীষণ প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও
পত্র বা কবিতায় ঊর্মিমালী লিখিতে অধিক পছন্দ করে,
যাহারা অপভ্রংশাত্মক রসবোধে শ্বাস লয়,
যাহাদের সংখ্যা সাহিত্যের প্রকারভেদ বলিয়া ভ্রম হয়,
বা যাহারা হৃদয় কথাটি উচ্চারণের সময়
হস্ত বক্ষস্থিত না করিয়া মস্তিষ্কে রাখে,
কোনো সূত্রেই তাহাদের হৃদয় থাকিতে নাই।

তথা 'অন্য কারও ছন্দে বেঁধো গান' এবং 
'অন্য কারও সঙ্গে বেঁধো ঘর'- দুইই যুক্তিযুক্ত।
তবুও যদি ইতিহাস মধ্যে আসিয়া বা অন্য কোনো প্রকারে
দ্বিতীয় পদক্ষেপটি নিবৃত্ত করে, আপনার এই ভক্তটি
টু শব্দটি না করিয়া থাকিয়া যাইতে পারে।
 

আমার আপনার মত মেধা বা শক্তি কোনোটাই নাই;
আমি গায়িত্রী ছাড়া, তথাকথিত কলা বাহূল্য,
সংখ্যা বুঝিবার ক্ষমতাও ধারণ করি না।

Sunday, May 7, 2017

অসীম এবং গভীর; যেন ধ্রুবতারা।
ধ্রুবতারারা যেহেতু ধ্রুব,
তথা নিবারক বিহীন
নিদিনপক্ষে তাত্ত্বিকভাবে।

কলার সংজ্ঞা-বহির্ভূত ক্ষেত্রগুলি
সদা মনোলোভা, কিন্তু-
বাস্তবায়ন ভীষণ কৃত্য।
রামমোহন বা গ্যালিলিওর মতন
তিক্ত অলাবু বা,
যে কোনো স্বাস্থকর খাদ্যবস্তু,
'জোড়া রাজহাঁসে'র র ন্যায়
যথাবিহিত এবং অসূয়ক।
সমীচীনতা আর প্রগলভতার
মতন; যেন লৌহবর্ত্ন,
বা অর্ণব এবং চক্রবাল-
চির-নিকট এবং চির-পৃথক।


তবুও পৃথিবীর সমস্ত বিরচনের উৎস-
তুচ্ছ বা অতুচ্ছ ধ্রুবতারা।

Sunday, April 30, 2017

প্রমা হইতে অনুভূত প্রমার
উপকারিতা, কাজেরতা, প্রয়োগশীলতা,
ইত্যাদি অধিক সনির্বন্ধ।
আমার অনুরক্তির প্রশ্ন বাহুল্য-
মানবজাতির অকাট্য সৃষ্টি।
প্রভাব এইরূপ যে
ইহার পরিহার নির্বুদ্ধিতা বৈকি।

এমত উপলব্ধি পরিছন্ন ও প্রাচীন
যথা- প্রয়োগ অহরহ,
এবং অত্যন্ত লাভজনক।

ব্যতিক্রম একটি মাত্র-
সেইক্ষেত্রে পরিতাপ ভীষণ স্বার্থপর,
কেননা দ্বিভাব।
তবুও অভিপ্রায়, যদিবা এইরূপ হইত-
সে কোনোক্রমে অনুভূত প্রমা
অগ্রাহ্য করিয়া, হনুমান-কলা পূর্বক 
বক্ষভেদ অথবা অন্য কোনো কৌশলে
প্রমা দেখিতে পাইত!
তথা সমস্ত যুক্তি, ব্যাখ্যা, প্রত্যাশা, প্রতীক্ষা,
তথাজনিত ক্রোধ... ইত্যাদি
মুক্তি পাইত।


সম্ভবত এই কারণে
পক্ষপাত, গুণতন্ত্র হইতে,
নিদিনপক্ষে আবেগশীল ক্ষেত্রে,
এবং দীর্ঘকালীনতায়
অধিক স্থিতিশীল।

Wednesday, April 19, 2017

অসিদ্ধি সম্ব্রিত যাবতীয় পরতালের 
একমাত্র নিকৃষ্ট উপাদান-
যুক্তিবিহীন, তথাকথিত নির্মল,
আবেগ। 

বাণিজ্য, অর্থাৎ গণিত 
ঐতিহাসিক এবং সজ্ঞাবদ্ধ হেতুতে,
প্রায় মর্জাদা রক্ষার্থে-
কলা-পরিসীমার বহিরাগত।
ধর্মের ন্যায়- এমত বহুচর্চিত
যে যুক্তি দ্বারা তাহার খন্ডন অসম্ভব।

সংজ্ঞা সর্বজনীনভাবে সহজ হওয়া প্রয়োজন,
কলা বা অন্যথা।
মহাকাব্য বা অন্য যে কোনো লোকপ্রি়র ন্যায়।

গণিত বা বাণিজ্যের ন্যায় 
অতীন্দ্রি় বস্তুসমূল;
যেন উর্য্যকেন্দ্র-
শহর হইতে কিছুটা দূরেই
প্রতিষ্ঠিত থাকিবে চিরটা।
তাহা উর্য্যার প্রয়োজন যত
সহজবোধ্য হউক না কেন।

যে কোনো বিজ্ঞান,
বাণিজ্য, গণিত, পরিসংখ্যান, যুক্তি, ইত্যাদি
যে কলার ক্ষেত্রবিশেষ-
তাহা ধর্মের অহেতুকতা হইতেও
অধিক দুর্বোধ্য-
তথা চিরন্তন সত্য।

এমত সত্যের যে কোনো ক্ষেত্রে,
তাহা যতই সহজাত হোক না কেন,
পরিতাপ ভীষণভাবে অপ্রয়োজনীয়।


তথাপি সকল নির্মল আনন্দের
ক্ষেত্রেই নীহিত- এই তথাকথিত, আবেগ।
এবং সমস্ত অসিদ্ধির,
বিনীত ও বিনম্র-
ব্যাখ্যা।

Friday, March 24, 2017

বেবাক মতবাদ, যুক্তি, বোধ, বুদ্ধি,
এমন কি দৃষ্টি ও-
আবদ্ধ করা প্রয়োজন আজ।


প্রলক্ষন বধ করা দুরূহ
কিন্তু সুপ্তি সম্ভব।
শ্রোতা বা বিপণী ব্যতীত, আবেগ
নিরর্থক; যথা পরিহার্য।
সম্পূর্ণ বর্জন সম্ভব না হইলেও 
গাপ রাখা স্বাস্থকর।


সকলেরই অন্তরাল থাকে
তোমারও আছে।
আত্মগোপন আছে, বাটী আছে।
বাটীর দৃশ্যত সীমা আছে।


'আলেখ্য' হাঁকিয়া 'বর্নাবলেপন'-এর উদ্যেশ্যে
বক্তব্য তবু আছে;

(তুমি আছো। থাকবে।
স্মরণে, চিন্তায়। সদা।)

লুক্কায়িত সোপান-যুক্ত
ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারে,
আসব, তথা চষক আছে;
অহেতুক এবং নিকটস্থ আহরণ আছে।



পণ্যবিহীন সমস্ত ভাবনা, বিবেচনা,
সেইখানে-
লূতাতন্তু আর অলস, পরিচয়হীন মড়কের পার্শ্বে
নিদারুণভাবে অন্তরীণ হওয়া আবশ্যক আজ।

Saturday, March 4, 2017

ভূধৃতি সাধারণত অভ্যাস-প্রসূ,
কিন্তু গুনতন্ত্র মজুত।
গুনতন্ত্র নিরপেখ, সদা সাম্প্রতিক,
এবং ইতিহাস অজ্ঞানবাদী।
চরিত্র, চাহিদা, অসুখ ইত্যাদি
সকল মানসিক এবং শারীরিক
সূত্রের উর্দ্ধে। 

ঘ্রাণের আয়োজন অকাট্য প্রবোধ;
সমার্থে অনুস্মারক,
অনুস্মারক- নিশ্চিত, আসন্ন্য আখেরের।

ব্যাবাক দর্শনাবশেষে,
দুস্তোষ্য অনুভব এই যে-
প্রণোদনা দ্বারা হোক বা অন্যথা,
হে নিশ্চিন্ত, ঘুমন্ত- অপত্য,
দায়িত্ব সমস্ত নিপতিত তোমাতে;
ঠেকিয়াছি আসিয়া, ম্লানবদনে,
ক্লান্ত ও কোটরস্থ আঁখিতে,
অকুলের কূল, তোমাতে।

Sunday, February 26, 2017

আগের শহর, সবুজ শহর
এখন কেমন ধুলো-লাল।
আমদানির সাথে পাল্লা দিয়ে
অবকাঠামোর গেল তাল।

গাছের জানো, বয়েস আছে-
সাবালকত্বে ছায়া,
আমরা বাপু যুক্তি বুঝি,
বুঝি যৌতুকের মায়া।

সহপাঠীরা প্রবাসী সবাই 
আমি ও করিনি অন্যথা,
নিয়ম করে তবুও সবাই
মনে রেখেছি ঠাকুরের 'খাতা'।

মিনসে গোপালের পিসিমা
আড়তের দিকে চেয়ে তবু
ভাবে যদিবা হতে পারে
অরুণ, গত গোপালের হবু।

আমি যদিও ভাবি শুধু
সাঁড়ে পাঁচ যদি না হত
পাশে থাকতাম চুপটি করে 
শত্রুর মুখে ছাই যত!

Monday, February 20, 2017

সমস্ত কল্প্য ক্ষেত্রে বা পরিপ্রেক্ষিতে,
সন্তানের প্রতি আবেগ- অনাবিল স্নেহশীলতা।
চির অপক্ব, একচক্ষু স্নেহশীলতা।
কুসন্তান, শ্রবণকুমার নির্বিশেষে,
ভীষণ পক্ষপাতী এবং সহজাত,
অপত্য-স্নেহ!

ঠাকুরমার হস্তের ফলার, কবিতা,
রন্ধনক্রিয়া, স্বাতন্ত্র্য, একাকিত্ব
ইত্যাদির অনুরাগ সমুদয়,
সকলই একরূপ অলীক....
স্নেহশীলতা একম-
যেন মৌলিক যুক্তিবিজ্ঞানের এবং-বোতাম।

সমস্ত তথ্যগত হওয়া সত্ত্বেও যেইরূপ
উদ্ভাবনশক্তি ব্যতীত তথ্য,
ব্যাবাক সৃষ্টিতে
বিশেষ সাহায্য করে না। 


ত্তজরের ভূমিকা তবুও অধিষ্ঠিত,
অনৈচ্ছিক, অযৌক্তিক প্রলক্ষণ- ওজর!
শকটিস্থ ছা-এর স্কন্ধের প্রয়োজন বা রন্ধন,
দীর্ঘকালীন না হইলেও
অপ্রতর্ক্য অগদ বটে।

Saturday, February 18, 2017

শৈশবে, গ্ৰীষ্মকালের অধিকাংশ প্রাত্যরাশে,
ফলার প্রাপ্তির সৌভাগ্য ঘটিত।
অম্র, কদলি, কণ্টকিফলের সান্দ্র রস,
সামান্য দুগ্ধ, খর্জুর ইত্যাদির মিশাল।

গৃহাকুলতা অথবা স্মরণবেদনার তাগিদে,
একদা স্বাধীনভাবে, সহস্তে-
ফলার সৃষ্টির দুঃসাহস করিলাম,
এবং তাহা খাইবার ও।

অনুচিন্তনে ভাবিতে লাগিলাম-
ফলারের দুর্গতির একমাত্র কারণ,
ঠাকুরমার হস্তশিল্পের অভাব না ও হইতে পারে...
উপকরণ-প্রকৃতি ও
সম্ভবত নিহিত।

প্রভব যাহাই হউক,
ঐরূপ ফলার... বোধ করি-
ইহকালে আর জুটিবে না।


এমত পরিণতি ফলার ব্যাতিত,
আরো বহু ক্ষেত্রে প্রেক্ষিত।

Thursday, February 9, 2017

'তা না না না- র প্রস্তাব যে শুধুমাত্র
জাত লইয়া নয়,
সে আমি বুঝি এবং জানি।

দুর্বল্যে কাজ; তবুও অনপরিহার্য্য।
শক্তি সব।
তদুপরি, মুশকিল এই যে-
শক্তি, এমনকি মনোসিকতা বা আবেগ ও-
পিছপা।

অর্থাৎ বিশেষ প্রয়োজন নাই।
অর্থাৎ- তোমার পেছন...
আসলে পিছপা।

পিছপা- আয়নায় যখন নিজেকে সে দেখে-
তখন সে তোমার আবেগ,
এবং আমার- পিছপা!
ব্যাবাক এবং বৃত্তিধারী বলিতেছে অসুখ,
আমি তো মোটেই তা মনে করি না।
আমার মনে হয়- মন্থরতা।
আমার মনে হয়- সম্পাদ্যটা কায়িক।
অর্থাৎ নিতান্ত সময়-সাপেক্ষ্য।

যদিবা মানসিক হয়,
ওর বা অন্যথা, লোকের আবেগ আছে।
ভীষণভাবে তদুপরি- ওর পিতা আছে।

তা হল। তাতে কি?
কাঠুরিয়া বা মন্ত্রী তাতে,
আবেগপ্রবণ হইতে পারে-
এইরূপ সম্ভাবনা আছে কি?

এ বিশ্বের, মানবজাতির- সংজ্ঞা আছে।
বাধ্যতামূলক সজ্ঞা।
পালন তবু চিরন্তন-
চিরন্তন অনাবশ্যক।

বহু হল; বহু গেলো;
পালন এ আর সবে।
আমি নিজভাবে, নিজ গুনে, চেষ্টায়-
পালন করিব।

আরো তদুপরি, কড়ার-
ভাবোদ্দীপক;
হইব না; তুমি আমার অপত্য,
আমি তোমায় লইয়া থাকিব-
প্রতিশ্রুতি।

Monday, February 6, 2017

বলবত্তার প্রকারভেদ পুরাদস্তুর অপ্রয়োজনীয় 
কেননা স্বাধীনতা পরম সত্য।
বাক স্বাধীনতা, ক্রিয়াভাব স্বাধীনতা
এমনকি অনুরূপ প্ৰতিপাদন ও।
মূলতঃ নির্বাচন স্বাধীনতা;
অক্ষুন্ন, অনাক্রান্ত, অপ্রভাবিত নির্বাচন স্বাধীনতা!

গুরুত্ব, অধিশ্রয়, আশ্রয়,
নিশিদিন হোক বা অবসরমত 
সব চারিত্রিক- সঠিকতা বিহীন।
নির্ণয়ণ, মূল্যায়ন বা ন্যায্যতা প্রতিপাদন
নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় অগত্যা।

'মাটির বুকের ভিতর বন্দি জল'
কখনও নালিশ অথবা
বরিষণ জনিত প্রত্যাবর্তনের
অপেক্ষা করে না।


নিরন্তর তর্ক তবু গবাক্ষে উদয়ারম্ভ করে...
দ্বারবন্ধ করিলে ভ্রম আর সত্যের প্রারব্ধর
কথা মনে পড়ে।
ইঁটের বপ্রে অন্তরীণ আশয়,
সার্বিক, শর্তহীন, পক্ষপাতী, হাস্যকর আশয়।
কবিতার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত;
অনপেখ, গুণতান্ত্রিক, এবং যৌক্তিক।
যৌক্তিক বাধ্যতায় বহগামীক।

যুক্তি- ব্যবসায় ভীষণ ফলপ্রসূ;
আবেগপ্রবণ বৈয়ক্তিক ক্ষেত্রে নয়।
সম্প্রদায় কিন্তু পক্ষাঘাত ভুক্ত-
বাণিজ্যে আবেগ, আর সম্প্রদায়ে গুণতন্ত্র;
এমত চর্চা সহজাত।

এমত দুরূহে, সচরাচর আনমনে
চাবিকাঠি ঘুরাইয়া,
হঠাৎ বাক্স খুলিয়া দেখি-
অন্তরস্থ পুতুল কেবল প্রতারক।

অতঃপর বুঝি- প্রতারণা সংক্রামক
পক্ষাঘাত ভুক্ত আমি ও,
প্রতারক পুতুল তবুও আমার ঈশ্বর।

Friday, February 3, 2017

উপরিক তুমি, আমি অধরিক।
বহু পূর্বে গত; লিখিয়াছি, বলিয়াছি, বারংবার।
ইহার প্রাথয্য এইরূপ যে-
মুখ্য শ্রোতা তুমি।
আমি তো ব্যবসা বুঝি,
তাই তোমাদিগের আবেগশীলতা বঞ্চিত আমি
আবেগহীন পরিছন্নতার আময়-ভুক্ত আমি।

প্রমত্ততা পরিহার্য্য; জানি।
যৌনতা পরিহার্য্য; জানি।

কোনোরকম উপস্বত্ব ব্যতীত
নিয়ম ও ন্যায্যতা বাঞ্ছনীয়- জানি।

যুক্তি, স্বাধীনতা, গুণতন্ত্র, হ্যান ত্যান অপেক্ষা,
বহু মূল্যবান ক্রেতা তুমি।
আমার বৃহত্তম ক্রেতা তুমি;
তাই সংজ্ঞা, গুনতন্ত্র, স্বাভাবিকতা, সহজাত্য তোমার;
পালন আমার।

 
উপস্বত্ব?
আবার ব্যবসায়ীর মতো কথা বলিতেছ, শুভময়?
এই সত্য এত সাবলীল, যে-
সর্বদা নিস্পৃহ অগ্রগমন,
নৈসর্গিক অভিষেক-অভিলাষ;
অতীব সহজ, স্বভাবজাত, অনুদ্বিগ্ন,
অর্থাৎ মনোরম এবং ভীষণ শান্তিপূর্ণ।

তথাপি-
সত্য কেই শেষমেশ গাপ থাকিতে হইবে;
কেননা দ্বারবন্ধ ব্যতীত,
ভ্রমের উমান, যথা অনুবর্তী ক্ষতি 
এমত সঙ্গীন, যে- পরিত্রাণ-স্পৃহা সম্ভাব্য।
অর্থাৎ অদর্শন ভবিতব্য।

অদর্শন নিদারুণ, তথা অবিকল্প।
দ্বারবন্ধ তথা, সমুদয় সত্যের পশ্চাতে-
মূল পরিশ্রম ও পরিব্যয়।

Tuesday, January 31, 2017

হিন্দুস্তানীদের 'জী' -র তুলনায়
চরণ ছুঁয়ে প্রণাম বেশী নিকটের।
বয়োজেষ্ঠ্যের উপস্থিতিতে ধুম্রদন্ড সেবন যেরূপ-
অলীক প্রথা, তবু পালন-যোগ্য।
তা নিরীশ্বরবাদ যত সাবলীল ই হোক না কেন...

সমস্তই তো অভ্যেস আর ইতিহাস-
ভাবিতাম।
অতঃপর বুঝিলাম,
নবান্ন, সংক্রান্তি, বাউল, রাগ, কুন্তল, কুন্তলের ঘ্রান,
এইসবের মাহাত্ত্ব ও বিরাজমান।

মন্ডুক মন্ডুক থাকিবে, মহারাজ মহারাজ।
বুঝি; নত হই; গ্রহণ করি।
তদুপরি, জায়মানতা এই সমস্ত উপেক্ষা করিবে।
অনুরূপ যত স্বভাবজাত বা লোভনীয় হোক, 
আদল সংখ্যা নয়; আদল ব্যক্তিক বৈশিষ্ট্য!

তুমি, অর্থাৎ মনোনিবেশ করো;
মনোনিবেশ করো, নিজ দীঘিতে।

উপানৎ বেশিক্ষণ পরিধান করিলে
পদাঙ্গুলি গুলি বাস্তব অপেক্ষা বেশি কোমল দেখায়।
খায় না মাথায় দেয়?

Monday, January 30, 2017

জানি। বুঝি। বিশ্বাস ও করি।
বিশ্বাসে নয়, যুক্তিতে।
নাকি সন্তাপে?

কিন্তু সেটা গুণতান্ত্রিক নয়,
স্বভাব, ইতিহাস, অভ্যেসের- গন্ধে মাখা 
তাই দীর্ঘকালীন নয়।
আবেগ জনিত।
কিন্তু ত্রুটি তো নয়। কার ও।

প্রতিবর্তি ব্যাতিত সমস্তই তো আবেগ
উপার্জন ও।
তা সে যত যোগ্য প্রতিনিধিই হোক না কেন-
সাফল্ল্যের বা এলেম এর,
পরিচিত সৃজনশীলতার মতো 
সুখজনক বা নোনা নয়।

সব ই জানি। বুঝি।
অন্ধকার অথবা দুঃখবিলাস তবুও-
'মাংসরন্ধন-কালীন ঘ্রাণ'-এর মতো বিজয়ী।

ফুলের ভূমিকা বা সঙ্গা- শুধু নেহেরু।
জিন্না জিন্না,
বাহাদুর- লাল-বাহাদুর,
আর নেতাজি-পেঁয়াজি,
যেন কেজরিয়াল আর খড়্গপুর...
বিপরীতার্থক, মনোলোভা,
এবং দীর্ঘকালীন।
বাগ্মী যতই মিতভাষী বা অবিস্তৃত হোক 
সম্পৃক্তিক সম্পর্ক জনিত ঘোষনার
দ্বিতীয় হয়না।
পরিপাক-জায়ু শুধুমাত্র গতি। 

যোদ্ধার লটবহর থাকে;
চিত্রকরের তুলনায় বহু অধিক অতীন্দ্রি়, লটবহর।

যোদ্ধারও যেমন!
যেন যুদ্ধের আগে গম্য ছিল না,
'সূর্য দুঃখ্য করি বলে, নিন্দা শুনি স্বীয়....' আকৃতির-
উপঢৌকন সর্বদা চিত্রকরের।
যোদ্ধা নিঃশব্দ, নিবিড় আশ্বাস; শান্তি; বিশ্বাস।
কবিতা, আবেগ, উদাসীনতা, প্রমত্তা,
এমনকি বিমোহ ও,
চিত্রকরের অধিকার, যোদ্ধার নয়।

যোদ্ধার ওজর অন্যত্র
নির্বাচনের একমাত্র দীর্ঘকালীন ব্যাখ্যা-
দূরদর্শিতা।
শীতল, আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর, দূরদর্শিতা।
অগত্যা অনুতাপ এমত ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অযাচিত।
যোদ্ধা সংজ্ঞায়িত দায়িত্বে,
সামাজিক, স্বাভাবিক, প্রিয় বা শান্তিপূর্ণ
হইতে পারে না। 


যোদ্ধাকে উপলব্ধি করিতে 
যুদ্ধক্ষেত্রের উপচিতি প্রয়োজন।

Saturday, January 28, 2017

ইন্দ্রিয় বা ইন্দ্র ছাড়াও- ইন্দু!
সক্রিয়, সাধারণত পিতৃব্যপুত্র, ইন্দু।
অম্বুদ, কজ্জল, দখিনা বাতাস, বা 
বিন্দু ও হইতে পারে; ইলশে গুঁড়ি ও।

কবিতা, চিত্র, চলচিত্র, সঙ্গীত, 
অনুষ্ঠান, উৎসব, পার্বণ,
একাকিত্ব অনুষঙ্গের অনুরক্তি;
বৈদেশিক বা বহিরাগত কারণে, 
অথবা সম্পূর্ণ অকারণে-
যদৃচ্ছভাবে অন্যত্রে যাপন।

ক্রিয়াভাব আবেগের প্রতিফলন না,
স্নেহের না, পূর্বিতারও নয়।

পরিচ্ছন্নতার অভাব নাই।
তবু এমত পরিচ্ছনতায়,
'যা হয় ভালোর জন্যে হয়' গোছের 
সান্তনা আছে।

Wednesday, January 25, 2017

আক্ষরিক ভাবে অর্থহীন,
অথচ জোড়া লেগে, অগ্রে অথবা পশ্চাতে, বহুমূল- প্রত্যয়।
আক্ষরিক ভাবে অর্থহীন,
অথচ বাক্যের প্রাণ- অব্যয়!

যতিচিহ্ন দৃশ্যত অর্থহীন, কিন্তু মূলতঃ মোটেই তা নয় 
তা বিশেষণ বা সর্বনাম যত কাছেরই হোক না কেন।

বর্ণহীন ব্যঞ্জনরাশি ও তাই-
বোকা হিজলগাছের মতো ঠায় তাকিয়ে থাকে,
প্রভু বা রচয়িতার দিকে।

দাবি কি?
দাবি এই যে:
আমাদের তবু, আলমারির কক্ষ চাই।
সে আমরা বুঝি; তা আমরা চৌধুরী বাড়ির ভূত হই বা নাই হই।
কিন্তু তাই বলে ইতিহাস, অভ্যেস বা পক্ষাঘাতের বিচার হবে না,
তা কি করে হয়?
অট্টালিকা তো অট্টালিকা ই, তা তে-
'দিনে দিনে খসিয়া পারিবে রঙ্গিলা দালানের মাটি'
বাঁধতে বা গাইতে নেই?


আসলে বোধ হয় তাই। যে-
বিচার অসমীচীন।
তা সে 'যতই কালো হোক...
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ'।

Tuesday, January 24, 2017

সন্তোষজনক সম্পৃক্তিতে উপরিক ও অধরিকের ভূমিকা
তর্কসাপেক্ষ হইলেও মূলত ধার্য্য।
এইরূপ সংশ্লেষে অনায়াসে প্রতীয়মান-
উপরিকের মেধার অপচয় ও মানসিক বৃদ্ধির চিরকারিতা।
উপারিকের ক্রোধ বা বিরক্তি, সুপ্ত বা অন্যথা, অগত্যা ন্যায্য।
ক্রোধের প্রকাশ, দীর্ঘকালীন হইলেও, নিছক সময়সাপেক্ষ
তথা, যথাসময়ে তাহার অভিব্যক্তি অনপরিহার্য্য।

অধরিকের অবস্থা ঠিক বিপরীত-
উপারিকের সান্নিধ্য তাহার যারপরনাই সাফল্ল্য,
সাফল্যের প্রবলতা এবং সঙ্গবসত দ্রুত প্রবর্ধনের
ফলে ঔদ্ধত্য সৃষ্টি হয়।

সত্য যত সাবলীল, বাস্তবায়ন তত দুরূহ
তথা এই সত্যে অনিশ্চয়তার সঞ্চারণ প্রদত্ত।
এমত বিরুপ অবস্থার একমাত্র ব্যাখ্যা যে অধরিকের উন্নয়ন
এই সত্য, পরিণয় ছাপাইয়া, দুই চরিত্রের অসাম্যে গুহ্য থাকে।
সূত্রগুলি এত প্রচলিত যে প্রায় সংজ্ঞায়িত-
সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাহা প্রদত্ত বলিয়া ভ্রম হয়;
প্রণয় বা পরিণয়ে এইরূপ আবেগের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
যানজট উভয়মুখী হইলে সম্পর্কের উষ্নতা বৃদ্ধি পায়,
বহু বর্ত্ম, তথাপি, একমুখী হওয়া সত্ত্বেও সুশ্রী।

নির্বাচন স্বতন্ত্রতার অংশগত হওয়া,
আর স্বতন্ত্রতা মনুষত্বের
প্রগতিশীল বিবর্তনের স্বভাবজ পরিণাম।
কিন্তু স্নেহ লটবহর লইয়া চলে
অহং তার একম এবং অদ্বিতীয়ং
কলহ, অবিশ্বাস, যাতনা ইত্যাদি অনুসরণ করে।

নির্বাচন সকলের মৌলিক অধিকার
নির্বাচন সূত্র বহির্ভূত হইলে বিমর্ষতা অনিবার্য
কিন্তু যাহাই অনিবার্য তাহাই যে সঠিক
বা জনৈকের ক্রটি
এইরূপ ভাবনা ন্যায্য নয়।

স্বতন্ত্রতা প্রদান করা তাই
সমস্ত সম্পর্কের সাফল্যের মূল হেতু
এবং মূল পরিশ্রম।

Sunday, January 22, 2017

যত্ন বা ক্ষত, উদ্দেশ্য- পরিধীর ন্যায় স্পষ্ট
বিধেয় সর্বদা আবছা; সর্বাঙ্গীন এবং দীর্ঘস্থানীয়।
সংক্ষিপ্ততা বর্জিত, আকারহীনতার প্রদর্শনী।
ক্ষুধা, সুগন্ধ, ফুল, শৈশব স্পষ্টত প্রিয়; কিন্তু সুলভ
অপ্রতিসাম্য দৃশ্যত উজ্জ্বল, কল্পনাপ্রসূত, বিরল,
বহিরাগত, ক্ষণিক; তথাপি গুণতন্ত্রের প্রতিরুপ।

যে কোনো পর্বতই এখন নীল, প্রায় দূরত্ব অজ্ঞানবাদী।
মেঘের মতো স্নিগ্ধ; বর্ষণের প্রবলতা ইচ্ছাদত্ত, আবেগনির্ভর; অর্থাৎ স্বার্থপর
তথাপি জ্ঞানী; সৃজনী; গবাক্ষ সংলগ্ন আরামকেদারা।
সহাবস্থান বা সমুদ্রের মতো নোনতা নয়,
অকৃত্তিম স্নেহ বা পক্ষপাতের মতো অট্ট নয়।

কলহে স্তব্ধতা একুল, ওকুলবিহীন; কূলবিহীন।
শান্তি, দ্বন্দ্ব পরিহার্য্য- ভ্রম মাত্র।
প্রাণের বেশি বড় শত্রু মাংশাসী না নিরামিষাশী,
পরিপ্রেক্ষিত বা সংজ্ঞা নির্ভর হওয়া সত্ত্বেও 
সংজ্ঞাগুলির উৎসজনিত সুস্থতা আছে; যেন মেধা - অভাবহীন।
আয়ত্ত্ব, শিক্ষাগত বা সহজাত।

সমস্তই পরিচিত, অনায়াসে বোধগম্য
তবুও পলায়ন, এমন কি সম্মত অনুপস্থিতি ও অনুকূল নয়
কেননা যাত্রা; যাত্রার দীর্ঘকালীনতা সংজ্ঞাবদ্ধ,
কেননা প্রায় সমস্তই পণ্য; মূল্য চিরকাল নির্ধারিত
কেননা প্রাণ আছে; বিবেচনা আছে;
প্রজন্ম আছে।
কথোপকথন যত জায়মান তত মধুর-
গর্ভপাত, ইচ্ছামৃত্যু বা সমকামীতার বৈধকরণের সমীচীনতা,
পদবি পরিবর্তন, প্রথাগত কিম্বা আবেগসূচিত
রবীন্দ্রসঙ্গীত এর নিজস্বকরণ বা স্বনির্ধারণের গহির্ত্ব বা ঔদার্য্য,
বুদ্ধিবৃত্তি একম ও অব্দিতিয়ং 
'অনুগ্রহ করিয়া' র ব্যবহারের ঘনত্বের বৃদ্ধি 
প্রেয়সীর জন্য অপেক্ষার মাধুর্য্য
অপভ্র্রংশের তনিমা- শুষ্ক রসবোধ
আদরের বহিঃপ্রকাশের তীব্রতা
জনৈক সুস্থ মানুষের প্রকৃতির ভয়াবহতা
পদার্থবিদ্যা গণিতের বিশেষ ক্ষেত্র কিনা,
প্রযুক্তির দানের গ্রহণযোগ্যতা
বিশ্বায়নের ক্ষুদ্রতা বা মহানুভবতা
arithmetic progression বা cf gauss এর অনুবাদ, এমন কি লিপ্যন্তর সম্ভব কিনা
ইত্যাদি।

এই সমস্তই, হে আলেখ্য, মূলত সমর্থনযোগ্য, স্বজ্ঞাত।
তথাপি, বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ বা নোঙ্গর সম্বন্ধে পত্র বা কবিতা হয়না।
অপভ্র্রংশাত্বক রসবোধের মাধুর্য্য
উহার খরচের, মূল এবং আনুসাঙ্গিক,
ন্যায্যতা প্রতিপাদন করে কিনা, তাহা তর্কযোগ্য।

শিল হইতে মানুষ যতটা সহজাতভাবে বাঁচিয়া চলে,
এবং একই সঙ্গে শিলাবৃষ্টি উপভোগ করে;
অপভ্রংশের ক্ষেত্রে এই দর্শনের নগন্যতা অধিক দুর্লভ।
শুষ্ক ধরায় প্রথম বর্ষণের পরের সোঁদাঘ্রান
যে বস্তুত একপ্রকার ব্যাকটেরিয়ার কলাপ
সেই সত্য শিক্ষাগত পক্ষাঘাতের পশ্চাতে
উদাসীনভাবে, নিশ্চিন্তে বিরাজ করে।
'चाँद चुरा के लाया हूं, चल बैठे चर्च के पीछे' -আকৃতির।

অপভ্রংশ সংজ্ঞাগত দায়িত্বে চড়জাতীয় হওয়ায়,
শ্রোতাদের ক্রোধ অনিবার্য্য; সুপ্ত বা অন্যথা।
উপস্থিত সৃজনশীলতা যে প্রতিভারই ক্ষেত্রবিশেষ
অতীব সহজগম্য হওয়া সত্ত্বেও-
এই সত্য প্রাকৃতিক ক্রোধে অনায়াসে রক্ষাগত হয়।

বিকাশ এবং নম্রতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধী পরম্পর
আবার ভ্রম সঞ্চারণ, যেন সাহায্য প্রয়োজন;
ওজনের ইহ নাই। যথা, তথা ও নাই।

ছলাৎ ছল যত অন্যমনস্কতারই অনুসন্চারণ হোক না কেন,
আমরা জানি যে নদীর দুকূল আছে।
'ও পারেতে সর্বসুখ' ছাড়া ও জানি যে-
এপার- 'লক্ষী যখন আসবে, তখন কোথায় তারে দিবিরে ঠাঁই?'
ওপারের লক্ষী, তাঁর উৎপাদন ও উন্নয়ন থাকা সত্ত্বেও- 'পদ্মটি নাই'।
ওপার কাকতালীয় ভাবে সাহিত্য, চলচিত্র, সম্পাদনা,
পোশাকের নির্ণয়ন যে চরিত্রের বাহন-
এই সমস্ত লইয়া সন্দিহান থাকে।
এপার- 'খায় না মাথায় দেয়?' - ভাবিতে ভাবিতে
অক্লেশে বিপুল শর্করাপ্লুতো আহার্য চর্বিয়া,
অকালবোধনের প্রাতে নিজেকে ধন্য জ্ঞান করে।

এই দুই মানশিকতা যে ঢেউএর আতিচর্য এবং শশীচক্রের মতো জড়িত
ধুম্রডণ্ড এবং লক্ষী তাহা, যথাক্রমে, অনায়েসে অতিক্রম করে।
সমস্ত অপভ্রংশের পিছনে মূল পরিশ্রম, এই খরচ।

ইতির আগে তবুও পঙক্তি সম্ভব-
সান্ত্বনা খুজিলেই পাওয়া যায়-
উর্যাকেন্দ্র সর্বদা শহরের কিছুটা দূরত্বে থাকে;
ঘর্ষণের ন্যায়; প্রয়োজনীয় মন্দ।
নৌযৌক্তিক সাক্ষাত্কারে প্রয়াসই বলিয়া থাকি-
কারণ মেধা নয়; কারণ মনভাগ।
মনভাগ প্রায় সমস্তই নির্ধারণ করে।
যোগাযোগের মাধ্যম, দূরত্ব ইত্যাদি... অজ্ঞাবাদী; মনভাগ!

সূত্র সাধারণত সুলভ, বিজয়ডঙ্কা অহং
তোমার অমুক থাকিলে, সম্ভবত আমারও তমুক থাকিবে।
অহং-জনিত এই দ্বন্দে বিজয়ী যেই হোক,
অকপট স্নেহের পরাজয় নিশ্চিত।
জানি। বুঝি। বিশ্বাস ও করি।
বিশ্বাসে নয়, যুক্তিতে।
নাকি সন্তাপে?

কিন্তু সেটা গুণতান্ত্রিক নয়,
স্বভাব, ইতিহাস, অভ্যেসের- গন্ধে মাখা 
তাই দীর্ঘকালীন নয়।
আবেগ জনিত।

কিন্তু ত্রুটি তো নয়। কার ও।
প্রতিবর্তি ব্যাতিত সমস্তই তো আবেগ
উপার্জন ও।
তা সে যত যোগ্য প্রতিনিধিই হোক না কেন-
সাফল্ল্যের বা এলেম এর,
পরিচিত সৃজনশীলতার মতো 
সুখজনক বা নোনা নয়।

সব ই জানি। বুঝি।
অন্ধকার অথবা দুঃখবিলাস তবুও-
'মাংসরন্ধন-কালীন ঘ্রাণ'-এর মতো বিজয়ী।

ফুলের ভূমিকা বা সঙ্গা- শুধু নেহেরু।
জিন্না জিন্না,
বাহাদুর- লাল-বাহাদুর,
আর নেতাজি-পেঁয়াজি,
যেন কেজরিয়াল আর খড়্গপুর...
বিপরীতার্থক, মনোলোভা,
এবং দীর্ঘকালীন।