Wednesday, June 21, 2017

তল্লাশে এবং দৈবে প্রায় সমস্ত অভিরুচি, অভিরতি,
এমনকি সমুদয় আল্হাদ ও অভিলাষের
ব্যক্তিক প্রতিকীকরণ সম্ভব।
এইরূপ প্রতীকগুলিকে মানুষ অন্তরীণ রাখিবার প্রাণপন চেষ্টা করে আজীবন।
মানুষের ধারণা- এহেন চর্চায় সে প্রতীককে ভীষণ সযত্নে রাখে,
তথা অন্তরীণ হওয়া সত্ত্বেও প্রতীকের যে কোনও রসদ 
এমনকি মুক্ত বায়ুর প্রয়োজনীয়তাও অযাচিত।
নিজস্ব প্রতিকীকরণ যে উভয়মুখী না ও হইতে পারে 
সে তাহা উদাসীনভাবে উপেক্ষা করিয়া চলে।

প্রতীক জানে প্রতীকের সৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ইত্যাদি দ্বারা চালিত নয়,
তথা যেই সমস্ত চর্মচটিকাগুলি সদর দুয়ার দ্বারা প্রবেশের অভিপ্রায় রাখে,
প্রতীক তাহাদের দুইহস্তে বর্জন করিতে দ্বিধা করে না। 

অবিলম্বে তবুও, ইতিহাস, অভিজ্ঞতা এমনকি বংশানু ছাপিয়া
থাকে কেবল অনিবার্য চর্মচটিকাদের প্রবেশ।
কখনও উপসেবক, কখনও বিমোহকের ছদ্মবেশে
বাতায়ন বা গবাক্ষ দ্বারা, সাধারণত অপরাগতা
বঞ্চিত বা অতীব মনোলোভা শৈশবের অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উৎসবের মাধ্যমে 
প্রবেশ করে সেইসব চর্মচটিকারা।


তৈরী হয় উত্তাল, থমথমে ছাদ; উদাসীন ও সহজাতভাবে।

Friday, June 2, 2017

চকিতে গবাক্ষ হইতে সূর্যরশ্মি
অতীব তীব্রভাবে বিচ্ছুরিত হইতে আরম্ভ করে...
কুন্তীর চক্ষুযুগল ধাঁধাইয়া যায়,
ঠিক মূর্ছা বলা যায় না- একটা ঘোরের মধ্যে প্রবেশ করে কুন্তী।
সম্বিত ফিরিয়া পাইয়া দেখিতে পায়-
ক্রোড়ে এক সদ্দ্যজাত ফুটফুটে শিশু;
আনন্দে আত্মহারা, সে অরুণদেবকে প্রণাম করিয়া
দ্রুতপদে কক্ষ হইতে বিদায় লয়।

বাসক উদ্দেশে ধাবনকালে পার্শবর্তী কাননে
এক অভূতপূর্ব দৃশ্য প্রতক্ষ্য করিয়া, চমক লাগিয়া যায় তার-
অনতিদূরে, সুতনু এক শিখীযুগল মানবকণ্ঠে হাঁকিয়া উঠে-
"আমাদের একটু বলে দেবেগা বৌঠাকুরুন, তোমাদের পদ্ধতিটা?
বড় সাহেব নিষেধ করেছেন- আমাদের ওইভাবে কিছু করতে নাইগা-
আমরা জাতীয় পাখী বলে কতা!"

কুন্তী নির্বাক, মুখে টু শব্দটি নাই- অপ্রতিভ নিস্তব্ধতা।
নিরাশ শিখীযুগল একে অপরের দিকে কিয়ৎক্ষণ চাহিয়া থাকে
এবং চুরুট সেবনে ব্যস্ত হইয়া পড়ে।